সেদিন পর্ব ৯


সেদিন কেনাকাটা শেষে বাসায় আসতেই আন্টি আমার সাথে গল্প জুড়ে দেয়। বেশিরভাগ গল্পই ছিলো ধূসরের বাবাকে নিয়ে। উনি কি খেতে পছন্দ করতেন, কেমন ছিলেন এসব। উনাদের পুরোনো অ্যালবাম খুলে আঙ্কেল আণ্টির বিয়ের ছবিও দেখিয়েছিলেন। ধূসরের বাবা আর ধ্রুব ভাইয়া দেখতে একদম সেইম। ধূসর হয়েছে একদম আণ্টির মতো, সেই মাথা ভরা কুঁকড়ানো ঝাঁকড়া চুল, বাঁকা বাঁকা গেজ দাঁত,
গায়ের রঙও এক। দেখলে মনে হয় যেন কেউ দুধের মধ্যে আলতা ছেড়ে দিয়েছে। তবে ধূসর আঙ্কেলের মতোই অনেকটা লম্বা, হবে ৫ ফুট ১০ এর মতন। আঙ্কেল কার এক্সিডেন্টে মারা যাওয়ার পর আন্টি তাদের অনেক কষ্ট করে বড় করেন। শুনে খুব খারাপ লেগেছিলো। আমাদের গল্পের মাঝে ধ্রুব ভাইয়াও সেদিন হাজির হয়ে গিয়েছিলেন।
– এই ভাবি বলুন গো আমি কার মতন দেখতে হয়েছি?
– আঙ্কেল।
– ওহো তাহলে তো আমি বেশ হ্যান্ডসাম। তবে ভাইয়া আরও বেশি সুন্দর। বিশেষভাবে ভাইয়ার চুলগুলোর কারণে আমি আজ পর্যন্ত কোনো মেয়ের ক্রাশ হতে পারিনি। না হয়েছি তবে ভাইয়াকে যদি সে মেয়ে না দেখে থাকে তাহলে আরকি। আমার ভার্সিটিতেই তো আমি কতো মেয়ের ক্রাশ। শুনোনা একবার হয়েছে কি
ভাইয়া একবার আমার সাথে দেখা করতে রাজশাহী গিয়েছিলো আমার উপর অলরেডি ক্রাশ খাওয়া মেয়ে যে কিনা এক সপ্তাহ আগে আমার জন্য অনশন করতে বসেছিলো ভাইয়াকে দেখার পর আমাকে এসে বলে,
এই ধ্রুব শুন আজ থেকে তুই আমার দেবর, এখন তাড়াতাড়ি নাম্বারটা দে তোর ভাইয়ের।
আমি বলেছিলাম এই তুই না আমায় ভালোবাসিস, আমার জন্য কতো ঢং দেখাস তাহলে এখন কি বলছিস?
গতকালই তো তুই আমায় কেঁদে কেটে বললি ধ্রুব তুই আমার ওয়ান এন্ড অনলি ক্রাশ। জানেন সে আমায় কি উত্তর দিয়েছিলো?
– কি বলেছিল?
– বলেছিলো,হ্যা গতকাল তুই ছিলি আমার ক্রাশ আর
আজকে তুই লোকাল বাস। বল এসি বাস ছেড়ে কি কেউ লোকাল বাসে চড়ে?
আমি সেদিন ধ্রুব ভাইয়ের কথা শুনে খিলখিল করে হেসে দিয়েছিলাম।
আন্টি বলেছিলেন, সবসময় এই হাসিটাই দেখতে চাই।
– অল ক্রেডিট গোওজ টু মি মা। আমিই তো ভাবির মুখে হাসি ফুটিয়েছি। সেই কবে থেকে ট্রাই করছি। তবে আমার তেমন একটা সময় লাগেনি মাত্র এক দিনেই আমি সফল। তবে ভাইয়া দশ মিনিটের মধ্যেই ভাবিকে হাসিয়ে ফেলতে পারতো। ভাইয়া যা মজা করতে পারে না ভয়ানক মজা। তবে আপনি যা লাজুক আমার মনে হয় ভাইয়ার কথা শুনে আপনি মরেই যেতেন।
– আচ্ছা ঝুম তুই তো রাজশাহীতে পড়াশুনা করিস । হোস্টেলে থাকিস?
– না আন্টি আমাদের বাসা ঐখানে। বাসায় থেকে পড়াশুনা করতাম।
– তাহলে মা কি করবি এখন? দেখ আমি পড়াশুনার ব্যাপারে খুব কড়া। তুই আমার বাড়ির বউ হয়ে পড়াশুনা বাদ দিয়ে দিবি তা আমি মানবো না। পড়ার জন্য কিন্তু আমার কাছে মারও খেতে পারিস হাহাহাহ্।
– আন্টি আমি কখনো আর বাসায় যাব না, কখনো না।
– তো কি হয়েছে হোস্টেলে থেকে পড়াশুনা করবি।
আমি ধূসরকে বলে সব ব্যবস্থা করছি।
ধূসর আমার হোস্টেলে থাকার ব্যবস্থা করার এক সপ্তাহ পরই আমি ধ্রুবর সাথে রাজশাহী চলে যাই। ধ্রুবেরও ছুটি শেষ হয়ে গিয়েছিলো তখন। ধূসর আমাদের ট্রেনে উঠিয়ে দিতে স্টেশনে এসেছিলো। বাসা থেকে চলে আসার সময় আন্টি বারবার বলে দিয়েছে ভালোভাবে পড়াশুনা করতে আন্টি প্রতিদিন আমার সাথে ফোনে কথা বলবেন। স্টেশনে ট্রেন থামার পর ধ্রুব আমার ব্যাগ হাতে নিতেই সেদিন ধূসর ধ্রুবর হাত থেকে ব্যাগটা নিয়ে নেয়।
– আরে ভাইয়া আমি পারবো তো তোমাকে নিতে হবে না।
– না আমি নিচ্ছি তোর নিতে হবে না।
– দ্যাটস্ ফাইন। নায়ক নায়িকার ব্যাগ নিবে এটাই তো স্বাভাবিক। আমার আর ভিলেন সেজে লাভ নেই। আমাদের ট্রেনে উঠিয়েই ধূসর চলে যায়। চলে যাওয়ার আগে শুধু বলে যায়, পড়াশুনায় যেন কোনো গাফিলতি না হয়। সেদিন বুঝতে পারিনি কথাটা ধূসর কাকে বলেছে, আমাকে নাকি ধ্রুব ভাইয়াকে হয়তোবা দুজনকেই। ধূসর যাওয়ার পাঁচ মিনিট পরই ট্রেন ছেড়ে দেয়। আমি জানালা দিয়ে দেখছিলাম। ট্রেন ছাড়তে না ছাড়তেই দেখলাম ধূসর দৌঁড়ে আসছে। আমি বুঝতে পারছিলাম না কেনো এভাবে দৌড়ে আসছিলো সে। সেদিন কোনোরকম ধূসর আমার পাশের জানলাটা ধরেই…
চলবে…

লেখক/লেখিকা সম্পর্কে Lamyea Chowdhury

Lamyea Chowdhury

এটাও দেখুন

সেদিন পর্ব ৬

  – দেখো ধূসর মা আমাকে অনেক করে বুঝিয়ে বলেছে যে এখন মনে হচ্ছে আমি …

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।