সেদিন পর্ব ৭

ধূসর সেদিন অবাক করে দিয়ে বলেছিলো আমার পরিবারকে ডাকতে হবে না। ওদের কাছে আমার খুশিই বড় খুশি। আপনি তাড়াতাড়ি কাজি ডাকুন আপনার মেয়েকে আমি এখনই বিয়ে করবো।
আমি সেদিন আর দাঁড়িয়ে থাকতে পারিনি। চোখ বুজে আসে, সব অন্ধকার দেখছিলাম তারপর জ্ঞান হারিয়ে ফেলি। যখন জ্ঞান ফিরে নিজেকে বিছানায় আবিষ্কার করি। আমি শুয়া থেকে উঠে বসেই বলেছিলাম, কাজি এসেছে? আমি বিয়ের জন্য প্রস্তুত।
সেদিন আধা ঘণ্টার মধ্যেই আমার আর ধূসরের বিয়ে হয়ে যায়। বিয়ে হওয়ার সাথে সাথেই আমি ধূসরকে বলেছিলাম আমি আর এক মুহূর্ত এখানে থাকতে চাই না। সেদিন এক কাপড়ে ধূসরের সাথে আমি এসে পড়ি। এমনকি আসার সময় আমি আমার মোবাইলটা তো আনিনিই সাথে আমার গলায় থাকা জন্মদিনে বাবার দেওয়া লকেটটা ও খুলে মায়ের হাতে দিয়ে এসে পরি।
মায়ের কান্না দেখে নিজেকে কন্ট্রোল করতে পারি নি।
মাকে জড়িয়ে ধরে কেঁদে বলেছিলাম, মা তোমার শিক্ষা
কখনো ভুল হতে পারে না। সেদিন ধূসর কেনো বিয়েটা করেছিলো আমি জানি না তবে আমি ক্রোধে,অভিমানে বিয়েটা করি। হাজার হোক আমিও আমার বাবার মেয়ে, ফুফির ভাইজি, আমারও তেজ কম না। আসার সময় একবারো আমি বাবার দিকে তাকাইনি। ফুফিকে একটা তাচ্ছিল্যের হাসি দিয়ে স্বাতি আপুকে বলেছিলাম, আপু তুমি কিন্তু আমার কাছে আজ থেকে সবচেয়ে প্রিয় অভিনেত্রী, অামি পারলে তোমাকে এখনই অস্কার দিয়ে দেই। আর শুনো সাহিত্যেও তোমার হাত খুব ভালো। সেদিন ধূসর আমাকে বলেছিলো,
ঝুম চলে এসো আমি চাইনা আমার ওয়াইফ কোনো সস্তা মেয়ের সাথে কথা বলুক।
আমিও সেদিন আর কোনো কথা না বলে ধূসরের সাথে চলে আসি। বাড়ি থেকে বেরিয়েই ধূসর রাস্তায় বসে পরে। আমিও ঠাই দাঁড়িয়ে থাকি। কি থেকে কি হয়ে গেলো। আমি সেদিন আর দাঁড়িয়ে থাকতে পারছিলাম না, খুব খারাপ লাগছিলো কিন্তু ধূসর উঠার নামই নিচ্ছিলো না। আমি আর না পেরে বলেছিলাম প্লিজ চলুন আমি আর দাঁড়িয়ে থাকতে পারছি না। অনেক খারাপ লাগছে। ধূসর চলো রিকশা নিচ্ছি বলেই একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে দাঁড়িয়ে পরে। একটা রিকশা থামিয়ে আমাকে উঠতে বললে আমি রিকশায়য় উঠে পরতেই ধূসর রাস্তায় পড়ে থাকা একটা ক্যানে সজোরে লাথি দিয়ে আমার পাশে রিকশায় বসে রিকশাওয়ালাকে বলেছিলো, মামা চলো এই ফেরাউনের জান্নাত থেকে।
ধূসরের বাসার কলিংবেল বাজাতেই একটা মহিলা এসে দরজা খুলে দিয়ে বলে,
– বাবা কি হয়েছে? তোকে এমন দেখাচ্ছে কেনো? বল স্বাতি কোথায়?
– মা তুমি ওকে একটু বসতে দাওতো, ওর অনেক খারাপ লাগছে।
সেদিন আমি ঐ মহিলাকে দেখেই বুঝেছিলাম যে উনি ধূসরের মা। উনার কোঁকড়ানো চুলই তা জানান দিচ্ছিলো। আমাকে তিনি ড্রয়িং রুমের সোফায় বসতে দিয়ে বলেন, মা তুমি একটু বসো। আমি তোমার জন্য ঠান্ডা পানি নিয়ে আসছি।
আমি সেদিন ড্রয়িংরুমের বিছানায় শুয়ে ঘুমিয়েই গিয়েছিলাম। সেদিন আমার কোনো হিতাহিত জ্ঞান ছিলো না, ছিলো না কোনো ভদ্রতা।
অনেকক্ষণ ঘুমানোর পর যখন ধূসরের মা আমায় ডেকে তুলে আমি বসেই বলি,
– সরি আণ্টি আসলে…
– না মা সরি বলতে হবে না। আমি ধূসরের কাছে সব শুনেছি। যা হবার হয়েছে। এখন হাত মুখ ধূয়ে নাও।
আমি টেবিলে খাবার দিচ্ছি খেয়ে নাও। একদম না বলবে না। কি হলো মা আসবে না? তাড়াতাড়ি এসো।
– আসছি আন্টি।
ডাইনিং টেবিলে যেতেই দেখি ধূসর বসে আছে। ভাত নিয়ে নাড়াচাড়া করছে কিন্তু কিছুই খাচ্ছে না। আমিও সেদিন কিছুই খেতে পারছিলাম না। আন্টি অনেকক্ষণ ধরে আমাদের দেখে নিজেই হাত ধূয়ে এসে আমাদের দুজনকে বলে অনেক খাওয়া হয়েছে আপনাদের এখন আর খাওয়া লাগবে না, আমি খাইয়ে দিচ্ছি। আন্টি সেদিন আমার প্লেট থেকে আমাকে খাওয়ায় আর ধূসরের প্লেট থেকে ধূসরকে খাওয়াতে থাকে। হঠাৎ একটা ছেলে এসে বলে মা তুমি সবসময় এমন করো।
– কি করি?
– এই যে ভাইয়াকে বেশি আদর করো।
– ধ্রুব মোটেও না আমি দুইজনকে সমান আদর করি তবে আজ থেকে আমি আমার এই মেয়েটাকে বেশি আদর করবো।
– ঠিক আছে ভাবি আমায় বেশি আদর করবেন।
আমি তো সেদিন এতো বড় ছেলের এই কথা শুনে লজ্জাই পেয়ে গিয়েছিলাম।
– আচ্ছা ভাবি আপনি কিসে পড়েন?
ইশ্ আমি তো তখন লজ্জায় মরেই যাচ্ছিলাম কি ভাবি ভাবিটাই না শুরু করেছিলেন।
– কি হলো কথা বলছেন না যে? আপনিও কি আমার মতো পড়া চোর নাকি?
– উফ্ ধ্রুব জ্বালাচ্ছিস কেনো মেয়েটাকে?
– উমা একটা মাত্র ভাবি আমার একটু মজাও করবো না? আর কেমন থমথমে হয়ে আছে ঘরটা। আমাদের বাসা কখনো এমন থাকে না তাই একটু মজা করছিলাম আরকি।
খাওয়া শেষ হওয়ার পর ধূসর আন্টিকে বলে কোথায় যেন চলে গেলো আর আন্টি আমাকে একটা রুম দেখিয়ে সেখানে রেস্ট নিতে বলেন। আমি রুমটাতে গিয়েই বুঝতে পারি এটা ধূসরের রুম। একগাদা বই, কঙ্কাল, স্ট্রেথেসকোপ, স্ফিগমোম্যানোমিটার হাবিজাবি দিয়ে ভরা। তবে বাসাটা খুব সুন্দর। ছোট হলেও খুব শৌখিন ভাবে সাজানো। ডান পাশে চোখ পড়তেই দেখি বড় দরজা থাইগ্লাসের। দরজাটা সরিয়ে দেখি বারান্দা তবে বারান্দায় শুধু একটা মাদুর বিছানো। সন্ধ্যা পর্যন্ত ঠিক সেই রুমেই বসেছিলাম। লাইটা জ্বালাতে পর্যন্ত ভুলে গিয়েছিলাম। কে যেন হঠাৎ লাইট জ্বালাতেই মুখ তুলে চেয়ে দেখি ধূসর। আমার দিকে ফিরতেই সে ভ্রু কুঁচকিয়ে তাকিয়ে ছিল।
চলবে…

*প্লিজ কেউ ছোট ছোট করবেন না। টাইম মেন্টেইন করে লিখতে হয়। ব্যাপারটা মনে রাখা উচিত।*

লেখক/লেখিকা সম্পর্কে Lamyea Chowdhury

Lamyea Chowdhury

এটাও দেখুন

সেদিন পর্ব ৬

  – দেখো ধূসর মা আমাকে অনেক করে বুঝিয়ে বলেছে যে এখন মনে হচ্ছে আমি …

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।