প্রথম পাতা / গল্প-কাহিনী / সেদিন (গল্পের পর্ব পাঁচ)

সেদিন (গল্পের পর্ব পাঁচ)

আল্লাহ এই চুলগুলো নিয়ে কতো ঢং!
সেদিন ও স্টোর রুমে যাওয়ার সময় ধূসর আর আমার মাঝের কথাগুলো ছিলো তার চুল নিয়ে।
– এই যে ঝাঁকড়া ভাইয়া থুক্কু ধূসর ভাইয়া যা বলবেন তাড়াতাড়ি করে বলে ফেলবেন যদি কেউ জানতে পারে তাহলে আমাকে শেষ করে ফেলবে বিশেষ করে ফুফি।
– উনার কথা আমার সামনে উচ্চারণ করবে না। মাথায় রক্ত উঠে যায় উনার কথা শুনলে। আর কি ঝাঁকড়া ঝাঁকড়া করছো কানের নীচে দেবো একটা।
– আসলে এমনি বলেছিলাম।
– হয়েছে পিচ্চি আর মন খারাপ করতে হবে না।
– আমি কি পিচ্চি নাকি? আর শুনুন আপনার সাহস তো কম না ফুফি আপনাকে চিনে তারপরও বাড়িতে ঢুকে পড়েছেন।
– না উনি আমাকে চিনেন না। আর চিনলেই বা কি হতো আমি স্বাতির জন্য সব করতে পারি।
– চিনে না?
– না। আমাকে একবার ফোনে অনেক কিছু শুনিয়েছিলো মনে হলেই মেজাজ খারাপ হয়ে যায়।
শুধুমাত্র স্বাতির মা দেখে কিছু বলিনি।
– উনাকে কেউ কোনোদিনই কিছু বলতে পারে না এমনকি আমার বাবা চাচারাও। আর ফুফাতো ফুফির কথা ছাড়া উঠেও না বসেও না।
– দজ্জাল দজ্জাল।
– একদম আমার ফুফিকে কিছু বলবেন না।
– কেনো বলবো না? পুরাই বিরক্তিকর মহিলা। একবার আমাকে দেখেওনি এমনকি আমার ছবিও না না জেনে বুঝে স্বাতির সাথে আমার সম্পর্কটা মেনেতো নেয়নি উল্টো ফোন করে আমাকে আমার স্ট্যাটাস নিয়ে ফোনে ঝেরেছেন। এতো খারাপ মহিলা আমি জীবনেও দেখিনি।
– মুখ সামলে কথা বলুন। সব বাবা – মাই চায় সন্তান ভালো থাকুক। তাই ফুফি মা হিসেবে এমন করেছেন।
আর আপনাকে দেখার কথা বলছেন না এই আইনস্টাইন মার্কা ঝাঁকড়া চুল দেখে ফুফি হাসতে হাসতেই মরে যেতেন। হিহিহি।
– একদম চুপ। আমার চুল সম্পর্কে আর একটা কথা বললে খারাপ হবে কিন্তু। তুমি বোধহয় জানো না এগুলো হলো আমার লাকি চার্ম। কলেজে সব মেয়েরা আমার এত সুন্দর চুল দেখে আমার উপর ক্রাশ খায়।
– ঠিক আছে। আমি আপনাকে এতো সাহায্য করছি আর আপনি আমাকে কোথায় ধন্যবাদ দিবেন তা না করে ধমকাচ্ছেন।
– আচ্ছা যাও তুমি স্বাতির সবচেয়ে পছন্দের বোন তাই তোমাকে মাফ করে দিলাম। আর ধন্যবাদ স্বরুপ একটা কাজ করতে পারি। তোমার ইচ্ছে হলে তুমি আমাকে ঝাঁকড়া দুলাভাই ডাকতে পারো।
– আপনি কীভাবে জানেন আমি স্বাতি আপুর পছন্দের?
– স্বাতি বলেছিলো তার মা আর তার মামাতো বোন ঝুম ছাড়া কাউকে আমার কথা বলেনি সে। যেহেতু তুমি আমাদের ব্যাপারটা জানো তাই বলা যেতেই পারে তুমি নিশ্চই স্বাতির খুব প্রিয় নয়তো সে তোমাকে আমাদের কথাটা বলতো না। এখন আবার বোকার মতো প্রশ্ন করো না যেন আমি তোমার নাম কীভাবে জানি।
– আমি এতোটাও বোকা না। আর আপনি কিন্তু মিথ্যে বললেন যে কলেজের সবাই আপনার চুল দেখে ক্রাশ খায়। আমি যতদূর জানি আপু আপনার ভ্যাম্পায়ারের মতো গেজ দাঁত দেখে আপনাকে পছন্দ করেছিলো।
সেদিন ধূসর হেসে আমাকে জবাব দিয়েছিলো সব মেয়ে আর আমার স্বাতি কি এক হলো নাকি।
সেদিন কিন্তু ধূসর ঠিক বলেছিলো স্বাতি আপু অন্য সবার মতো না আলাদা।
– ঝাঁকড়া দুলাভাই যান ভিতরে স্বাতি আপু আছে কথা বলুন।
– শুনো থ্যাঙ্কস তুমি অনেক ভালো। তোমাকে আরেকটা পুরস্কার দিবো।
– কি পুরস্কার?
– আমার আর স্বাতির যদি মেয়ে হয় তাহলে নাম রাখবো ঝুম। আর শুনো এখানে দাঁড়িয়ে দোয়া করলাম তুমি বেস্ট একজন জীবন সাথী পাবে।
– হয়েছে এখন যান তো।
– ওরে বাবা শালিকা আমার লজ্জা পেয়েছে।
– ধূসর কি হলো তাড়াতাড়ি এসো নয়তো কেউ এসে পরবে। আর ঝুম তুই ও আয়।
– আপু তোমরা কথা বলবে এখানে আমি থেকে কি করবো? আমি বরং বাইরে অপেক্ষা করি।
– সমস্যা নেই তুই আয়। কি হলো তাড়াতাড়ি কর। আর শুন দরজাটা লাগিয়ে ফেল।
– ঠিক আছে আপু।
– কি হলো ধূসর তুমি এখানে কেনো এসেছো? আর কীভাবে এসেছো?
– কীভাবে এসেছি সেটা ম্যাটার না। আমি এসেছি তোমার জন্য স্বাতি এটা সবচেয়ে বড় কথা।
– কাল আমার বিয়ে।
– আমার সঙ্গে চলো।
– না তা হয় না। আমার পরিবার কখনোই আমাদের মেনে নিবে না।
– এখন না নিলেও যখন দেখবে তুমি সুখে আছো আমার সাথে তখন ঠিকই মেনে নিবে।
– দেখো আমি কখনো তোমার সঙ্গে সুখী হতে পারবো না।
– হাহা হাসালে। এই আজগুবি কথা তোমাকে কে বলেছে?
– আমার মা বলেছে।
– উফ তোমার মা তোমার মাথাটা খেয়েছে। উনি এতো টাকা টাকা করেন কেনো? আর আমার কি টাকা হবে না নাকি। ইন্টার্নি শেষ হোক দেখবে আমি ঠিকই একটা ভালো জায়গায় সেটেল হবো।
– দেখো আমি তুমি জীবনটা কতদূর দেখেছি? আমার মা
অনেক বিজ্ঞ। মা কোনোদিন কোনো ভুল সিদ্ধান্ত নেয়নি। আমি ও অনেক ভেবেছি। গত কয়দিন ইমোশনাল হয়ে ভেবেছিও যে আমি তোমার সাথে চলে যাবো কিন্তু
– কিন্তু কি স্বাতি?
চলবে…

লেখক/লেখিকা সম্পর্কে Lamyea Chowdhury

Lamyea Chowdhury

এটাও দেখুন

সেদিন পর্ব ৭

ধূসর সেদিন অবাক করে দিয়ে বলেছিলো আমার পরিবারকে ডাকতে হবে না। ওদের কাছে আমার খুশিই …

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।