প্রথম পাতা / ইসলাম ধর্ম / বেপর্দা মহিলার কবরের আযাব, হদিসের ঘটনা!

বেপর্দা মহিলার কবরের আযাব, হদিসের ঘটনা!

ইমাম আবু বকর বিন আবিদ্দুনিয়া কবরের আযাব সম্পর্কে একটি যটনা বর্ণনা করেছেন। এ ঘটনাটি গিলগিট নামক একস্থানের। এক ব্যক্তি কবরস্থানের কাছ দিয়ে যাচ্ছিল। লোকটি শুনতে পেল, যে কবরের ভেতর থেকে একটি আওয়াজ আসছে। আমাকে বের করো। আমি জীবিত। কয়েকবার এ আওয়াজ শোনার পর লোকটি মনে করলো এটা তার শোনার ভুল হতে পারে। কিন্তু যখন আরও কয়েকবার এ আওয়াজ শুনতে পেলো তখন সে বুঝলো, এতো সত্যিই কবর থেকে আওয়াজ আসছে। লোকটি পাশের গ্রামে গিয়ে মানুষদেরকে বললো।
লোকটির কথাকলি শুনে গ্রামবাসী আশ্চর্য হলো। লোকটি বললো, চলো তোমরাও আমার সাথে কবরস্থানে যাবে। অতএব গ্রামবাসী কবরস্থানে গেলো। তখন গ্রামবাসী ও এ আওয়াজ শুনতে পেলো। সবাই একথার উপর বিশ্বাস হলো যে এ আওয়াজ কবরের ভিতর থেকেই আসছে।
এখন সবাই নিজ কানে কবর থেকে এ আওয়াজ শোনার পর মহল্লার ইমামের কাছে গিয়ে এ ব্যাপারে জিজ্ঞেস করলো। এখন এই অবস্থায় আমরা কি কবর খুলতে পারবো কিনা, ইমাম সহেব সবকিছু বিস্তারিত শোনার পর বললেন, যদি একথা আপনাদের দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস হয় লোকটি জিন্দা তাহলে কবর খুলে দেখতে পারেন।

এরপর সাহসী কিছু লোক কবরস্থানে গিয়ে কবরটি খনন করলো। কবরের মাটি সরানোর পর যখনই একটি তখতা সরানো হলো। তারা দেখলো ভিতরে একজন মহিলা উলঙ্গ অবস্থায় বসে আছে। আর তার কাফন পচে গেছে এবং মহিলা বলছে, জলদী আমাকে একটি কাপড় দাও। তাকে কাপড় দেওয়া হলো। কবরের ভেতর কাপড় দেওয়ার পর মহিলা পড়লো। মহিলা মাথায় ভালো করে কাপড় দিয়ে অত্যন্ত দ্রুতগতিতে কবর থেকে বের হলো। তারপর এক দৌড়ে নিজের বাড়িতে গিয়ে একটি কক্ষে প্রবেশ করলো। পিছনে পিছনে লোকজনও এসে পৌছলো। এসে দেখল কক্ষের দরজা বন্ধ।

লোকজন মহিলাকে ডাকতে থাকলো দরজা খোলার জন্য। মহিলা জবাব দিলো দরজা খুলবো। কিন্তু যারা ভিতরে আসবে, তারা কি আমার চেহারা দেখে ঠিক থাকতে পারবে ?
কেননা এখন আমার যে আবস্থা, তা দেখে সহ্য করা সব মানুষের জন্য সম্ভব নয়। সুতরাং অত্যন্ত সাহসী কোনো লোক যদি থাকে, তাহলে যেনো ভিতরে এসে আমার অবস্থা অবলোকন করে। মহিলার কথা শুনে সবাই ভয় পেয়ে গেলো। কয়েকজন লোক অত্যন্ত সাহসী ছিলো তারা বললো তুমি দরজা খোলো, আমরা ভিতরে আসব। মহিলা দরজা খুলে দিলো। লোকগুলো ভিতরে প্রবেশ করলো। ভিতরে মহিলা নিজেকে চাঁদর দ্বারা সম্পুর্ণ আবৃত করে বসে ছিলো। লোকগুলো ভিতরে প্রবেশ করার পর মহিলা প্রথমে নিজের মাথা থেকে চাঁদর সরিয়ে ফেললো। লোকগুলো মহিলার মাথায় চুল দেখতে পেলনা। আর মাথায় কোন গোশতও না শুধু হাড্ডি। লোকগুলো মহিলাকে জিজ্ঞাস করলো, তোমার মাথার চুল কোথায়?
মহিলা জবার দিলো, জিন্দা অবস্থায় আমি যখন ঘর থেকে বের হতাম, তখন আমার মাথায় কোন কাপড় থাকতো না। লম্বা লম্বা চুল পর পুরুষকে দেখিয়ে বেড়াতাম। মৃত্যুরপর যখন আমাকে কবরে রাখা হলো, তখন ফেরেশতারা প্রথমে আমার মাথার চুলগুলো একটি একটি করে টেনে তুলে ফেললো। প্রত্যেকটি চুলের সাথে মাথার চামড়া উঠে গেলো। সে কারনে আমার মাথায় চুলও নেই, চামড়াও নেই।
তাটপর মহিলার নিজের চেহারা থেকে কাপড় চাঁদর সরালো। লোকগুলো দেখলো মহিলার চেহারা ভয়ংকর। মুখে দাত ছাড়া আর কিছু নেই। আর ঠোঁটের কোন অস্তিত্ব ছিলো না। এ অবস্থায় শুধু দাঁতগুলো দেখা যাচ্ছিল। ভয়ংকর অবস্থা
এরপর লোকগুলো মহিলাকে জিজ্ঞাস করলো, তোমার ঠোঁট কোথায়? মহিলা জবাব দিলো। আমি আমার ঠোঁট লিপিষ্টিক দিয়ে রাঙ্গীয়ে পরপুরুষের সামনে যাতায়ত করতাম। এর জন্যই শাস্তি স্বরুপ আমার ঠোঁট কেটে ফেলা হয়েছে।
তারপর মহিলা নিজের হাত পা দেখালো। হাত ও পায়ের আঙ্গুলে নখ নেই। মহিলাকে জিজ্ঞেস করলে, সে বললো, নখ পালিশ লাগিয়ে হাতের পায়ের আঙ্গুলগুলো রঙ্গীন করে পর পুরুষের সামনে যাতায়াত করতাম, তাই আমার হাত পায়ের নখ তুলে ফেলা হয়েছে।
মহিলা বললো দেখুন, আমি জীবিত অবস্থায় সেজে গুজে মানুষকে দেখাতাম, নিজেকে বেপর্দা করে পর পুরুষের সামনে প্রদর্শন করতাম।
যার শাস্তি মৃত্যুরপর কবরে দেয়া হচ্ছে। একথাগুলো বলে মহিলা অজ্ঞান হয়ে জমিনে পড়ে গেলো। দেখা গেল মহিলার প্রান নেই মৃত। এরপর দ্বিতীয়বার তাকে কবর দেয়া হলো।
অতএব ভাই ও বোনেরা ! মহান আল্লাহ্পাক এ ঘটনা দ্বারা এটাই দেখাতে চেয়েছেন যে দেখ, এ মহিলার কি করুন অবস্থা হয়েছে। যাতে দুনিয়ার মানুষ শিক্ষা গ্রহন করে।
আল্লাহ তায়ালা আমাদের মা বোনদের খাস পর্দা করার তৌফিক দান করেন। আমিন।

লেখক/লেখিকা সম্পর্কে সুরাইয়া

সুরাইয়া

এটাও দেখুন

সৌদ রাজবংশের লজ্জার ইতিহাস এবং উসমানী খিলাফত ধংশে তাদের সহযোগ

সৌদ রাজবংশের লজ্জার ইতিহাস এবং উসমানী খিলাফত ধংশে তাদের সহযোগ… সৌদি আরব পৃথিবীর একমাত্র মুসলিম …

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।