প্রথম পাতা / কৌতুক / বাবার কাছে শুনা গল্প বা কৌতুক ।

বাবার কাছে শুনা গল্প বা কৌতুক ।

জগা বহুদিন পর বোনের বাড়ি যাচ্ছে। তার আনন্দে তর সইছেনা। কিন্তু জগার বাবার মনে শান্তি নাই। এমন একটা ভুলোমনা ছেলেকে কীভাবে একলা পাঠাবে ভেবেই হয়রান হয়ে যাচ্ছে। এ পর্যন্ত অন্তত ২০/২৫ বার সাবধান বাণী উচ্চারণ করে পই-পই করে বলে দিচ্ছেন-
“এই জগা, জ-গা, হুনছস?,
যাইতাছছ ত বইনের বাড়ি যা কিন্তু সব আবার গুলায়া ফেলিস না যেন!”
“কি যে কও না বাবা; আমি কী সব ভুইল্লা যাই!”
” না ভুললেই তো ভালা!”
কী কী দেখলি, কী কী খাইলি, আইয়া কইস কিন্তু! ভুলিস না কইলাম!”
“আইচ্ছা, ভুল হইবোনা।”
দূরের গাঁয়ের পথ, জগা চলছে তার বোনের বাড়ি। অবশেষে একসময় তার দীর্ঘ ক্লান্তিকর পথযাত্রা শেষ।
বোনতো ছোট ভাইকে পেয়েই খুশি।
কীরে জগা, বাবা-মায় কেমন আছে? ভালা আছে নি?
“হ, তাঁরা বালাই আছে।”
বোনের বাড়িতে জগার সে কী আনন্দ! কিছুদিন বোনের বাড়ি আনন্দ চিত্তে বেড়িয়ে আজ ফের তার বাড়ি ফেরা। চলে যাচ্ছে আজ। মাছ-মাংস এতদিন খেয়েছে তবে যাবার সময় বোন তাকে স্পেশাল সবজি মানে “পিঁয়াজ পাতার ভাজি” রেসিপি দিয়ে খুব করে খাইয়েছে। জগার সে কী খুশি!!অসাধারণ ভাঁজির স্বাদ! জিবে এখনো তা লেগে আছে। বেচারা জগা ভুলোমনা হলে কী হবে খাবার দাবারে এক্কেবারে মহা সমজদার! স্পেশাল পেঁয়াজ পাতা ভাঁজি খেয়ে এক্কেবারে সব বেমালুম ভুলে বসে আছে। এখন শুধু তার একটাই জলপনা বাবাকে তার এই অদ্ভুদ মজার খাবারের কথা বলতেই হবে। যেহেতু ভুলে যায়, তাই মনে রাখার জন্য তজবি জপা জপে বাড়ি ফিরিছে-
পিঁয়াজ পাতা ভাজি দিয়া ভাত খাই! পিঁয়াজ পাতা ভাজি দিয়া ভাত খাই! যাতে না ভুলে তাই, এটা জপছে আর হাটছে।পথ চলছে তো চলছেই। বিকাল বিকাল একটা ছোট নদীর কাছে এসে হাজির।
নদীতে হাঁটু পানি।ওই পাড়ে রাখালের দল গরু মহিষ চড়াচ্ছে আর খেলাধুলা করছে। আনমনে ওইদিকে দেখে দেখে নদী পার হতে যাচ্ছে। যেই নদীতে পা ডুবিয়েছে অমনি এতক্ষণ জপে আসা মাহেন্দ্র সেই কথাখানা আর মনে করতে পারছে না। হায়! হায়! অহন কী অইব? ভাবে আর ভাবে! বেচারা জগা! আহা! কী করি! কী করি!
হঠাৎ আইডিয়া! যেহেতু পানিতে পা দেয়ার সাথে সাথেই এটা মনে নেই তারমানে এইটা পানিতেই পড়ছে নির্ঘাত। কী আর করা কোন কুল-কিনারা না পেয়ে নদীতে পানিতে হাতাতে শুরু করলো- ” দেহি, এইডা কোন হানে পড়ল!!? নিশ্চয়ই পাওন যাইব!!

নদীর পাশেই চারণ ভুমি। রাখালরা খেলাধুলা করছিলো। তাদের অনেকের চোখই নদী পার হতে আসা ছেলেটার দিকে ছিলো। হঠাৎ বলা নেই কওয়া নেই পানিতে কী খুঁজছে?
খেলা ছেড়ে কৌতুহল বশতঃ তারাও পানিতে নেমে আসল। কী অইছে ভাই? কী হারাইছে? জগার সেদিকে কান নেই। সে খুঁজছেই আর খুঁজছে! তাই আর কী করবে, রাখালরাও খুঁজতে লাগলো। কিন্তু কী খুঁজছে কেউই কিন্তু জানে না। নদীর পানিতে অনেক মাছ। রাখালদের হাতে মাছ লাগে কিন্তু তারা মাছ ছেড়ে দেয়! না জানি কী মুল্যবান জিনিস বেচারা ছেলেটা হারিয়েছে! ঘটনার এই অবস্থায় হঠাৎ ক্লাইম্যাক্স!
:) আচমকা
রাখালদের কয়েকজন নাক চেপে ধরেছে!

এ ওর দিকে ড্যাব ড্যাব চাইছে আর বেকুবের মতো হাসছে? কিন্তু কিছুই বলছে না! এদের মধ্যে কেউ একজন বলে উঠলো ধুর শালা কে জানি পেঁয়াজ পাতার ভাঁজি দিয়া ভাত খাইয়া আইছে!!

হঠাৎ জগা ধনুকের ছিলার মতো টান টান করে দাঁড়াইয়া গেলো! আর, পাইছি পাইছি করে নদীর পানি দে দৌড়!! এই এতক্ষণের মহাশ্রমের পর কাঙ্ক্ষিত হৃত জিনিস পাইয়া সে কী খুশি! তারে পায় কে?
রাখালরা জগার পিছন পিছন দৌড়ায় আর জিগায়, ও ভাই, কী পাইছ?
জগার সেদিকে নজর নেই। সে মহানন্দে দৌড়াচ্ছে আর পাইছি পাইছি করছে? আমি বইনের বাইত পেঁয়াজ পাতার ভাঁজি দিয়া ভাত খাইছিলাম!! =p~ =p~ B:-)
কী? দাঁড়া তবে! এইবার রাখালরা ক্ষেপে গিয়ে মহা উৎসাহে জগাকে পেছন পেছন ধাওয়া দিয়ে ধরে দিল কতগুলো কিল-আর ঠুসি!! বেচারা জগার আর কী দোষ!!
** রাখালদের আক্ষেপ!কত কত মাছ হাতে লাগলো, ধরলাম না! আর ওই পুলাডায় কয় কী পেঁয়াজ পাতার ভাঁজি দিয়া ভাত খাইছে!! হায়রে কীইইনা বোকা আমরা!!

নোটঃ গল্প- আমার বাবার কাছ থেকে শোনা।গল্পের প্রধান চরিত্র কাল্পনিক। একই গল্প অনেক থাকতে পারে। ভিন্ন নামে। ভিন্ন আঙ্গিকে।
ছবি-অন্তর্জাল
** এই হাল্কা রসিকতা প্রকাশক গল্পটির উদ্দেশ্য নীচের কমেন্টে।।

লেখক/লেখিকা সম্পর্কে johirafran

johirafran

এটাও দেখুন

সেদিন পর্ব ৭

ধূসর সেদিন অবাক করে দিয়ে বলেছিলো আমার পরিবারকে ডাকতে হবে না। ওদের কাছে আমার খুশিই …

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।