প্রথম পাতা / লাইফস্টাইল / পুরুষরাই লাভ এট ফার্স্ট সাইট তত্ত্বে বিশ্বাসী

পুরুষরাই লাভ এট ফার্স্ট সাইট তত্ত্বে বিশ্বাসী

লাভ এট ফার্স্ট সাইট বলে কি কিছু আছে? নাকি এটা শুধুই সিনেমার কোন ডায়লগ। হ্যাঁ, এই তত্ব আসলেই সত্যি। লাভ এট ফার্স্ট সাইট হলো প্রথম দেখায় প্রেম।

 

অনেকে বলেন প্রথম দেখায় প্রেমে পড়ে গিয়েছিলো … এমন কথা বিশ্বাস হচ্ছে না। হ্যাঁ, আপনি বলতেই পারেন। কিন্তু এই কথার ওপর অনেক মতবাদ রয়েছে। তবে, পুরুষরাই এই তত্বে বিশ্বাস করেন আগে।

 

নতুন এক জরিপে এ তথ্য পাওয়া গেছে যে, নারীদের তুলনায় পুরুষরাই বেশি প্রথম দেখায় প্রেমে বিশ্বাসী। এর সংখ্যা প্রতি ৫ জনে একজন।’দ্য হিন্দুস্তান টাইমস’ এ প্রকাশিত এ জরিপের ফলে দেখা গেছে, প্রতি পাঁচ জনে একজন পুরুষ বলেছেন, তারা প্রথম দেখায় প্রেমে পড়েছেন।

 

অর্ধেকেরও বেশি পুরুষ বলেছেন, প্রথম দেখার পরই তারা মেয়েটির প্রেমে হাবুডুবু খেয়েছেন। আর তিনদিন ডেটিং এর পর মন হারিয়েছেন এমন পুরুষের সংখ্যা প্রায় তিন-চতুর্থাংশ।

 

অন্যদিকে, প্রতি দশ জনে মাত্র একজন নারী বলেছেন, তারা প্রথম দেখায় প্রেমে পড়েছেন। বেশির ভাগ নারীই ভালোলাগার মানুষের কাছে ‘প্রকৃত চাওয়া’ পেয়েছেন কিনা তা জানতে ষষ্ঠবারের মতো দেখা করা পর্যন্ত অপেক্ষা করেন।

 

গবেষণাটি পরিচালনা করেছেন মনোবিজ্ঞানী ও ‘ব্রিটিশ সাইকোলজিক্যাল সোসাইটি’র সদস্য অধ্যাপক অ্যালেকজান্ডার গর্ডন। গবেষণার এ ফলে লিঙ্গভেদে যে বৈপরীত্য ধরা পড়েছে তাতে অবাক হয়েছেন তিনি।

 

গর্ডন বলেন, “পুরুষের চেয়ে নারীরা সামাজিক পরিস্থিতি বেশি বুঝতে পারে এবং কোনো পুরুষের সঙ্গে প্রথম দেখার পর তাদের মনে নানা প্রশ্ন উদয় হয়।

 

এর মধ্য দিয়ে তারা বোঝার চেষ্টা করে ওই পুরুষকে ভালোবাসা কতটা নিরাপদ? সে তার সন্তানের জন্য কেমন বাবা হবেন?- এরকম আরো অনেক কিছু।”

 

“সারা জীবনের জন্য কাউকে পছন্দের ক্ষেত্রে পুরুষদের চেয়ে
নারীরা অনেক বেশি বিচক্ষণ,” বলেন গর্ডন।

 

জরিপের ফলে আরো দেখা গেছে, ব্রিটেনে পুরুষরা গড়ে জীবনে তিন বারের বেশি প্রেমে পড়ে। অন্যদিকে, নারীরা গড়ে প্রেমে পড়ে একবারই।

 

লাভ এট ফার্ষ্ট সাইট… এই বিষয়ে সাইরাকিউস ইউনিভার্সটির একদল গবেষক একটি স্টাডি করে বলেছেন ,আপনি যখন আপনার মিস্টার রাইট পার্সনের উপর চোখ রাখবেন তখন আপনার মস্তিষ্কের ১২টি অঞ্চলে একসাথে ঝড় উঠে যাবে। এক যোগে নির্গত হবে, ডোপামিন, অক্সিটোসিন, এড্রিনালিন, ভাসোপ্রেশন নামক সুখানুভুতির জন্য দায়ী কেমিকেল গুলো। ইন শর্ট লাভ এট ফার্স্ট সাইট হলো কোকেন নেয়ার পরের অনুভূতির সমতুল্য।

 

কেউ যখন প্রেমে পড়ে তখন তার ব্রেইনে প্রচুর পরিমাণে ‘ডোপামিন’ এবং ‘নর-ইপিনেফ্রিন’ তৈরি হয়, যে কারণে এমন নেশাগ্রস্তের অনুভূতি হয়।

 

শুধু মানুষ নয় অন্যান্য প্রাণীর ক্ষেত্রেও এমনটা দেখা যায়। একটি উদাহরণ দিলে বিষয়টি আরও পরিষ্কার হবে। এক গবেষণায় দেখা যায় প্রজনন কালে স্ত্রী ভেড়াকে পুরুষ ভেড়ার ছবি দেখালে তার ব্রেইনে নর-ইপিনেফ্রিনের মাত্রা বাড়ে। প্রাণীদের ক্ষেত্রে এই পরিবর্তন বেশিক্ষণ স্থায়ী হয় না। কিন্তু মানুষের ক্ষেত্রে তা থেকে যায় মাসের পর মাস, বছরের পর বছর।

 

বিজ্ঞানীরা বর্তমানে একমত যে, প্রথম দেখায় প্রেমে পড়ার বিষয়টা সত্যি সত্যি ঘটে। যেসব বিজ্ঞানী এ ক্ষেত্রে কাজ করছেন তারা বিশ্বাস করেন, যেসব সমাজে অস্থিরতা নেই, যুদ্ধ ও মৃত্যুর ঝুঁকি নেই সেসব সমাজে প্রেমে পড়ার সম্ভাবনা তুলনামূলক বেশি। আর এরকম একটা সম্ভাবনার প্রাথমিক শর্ত হলো এমন একটা অনুকূল বিশ্বাস সেই সমাজ ধারণ করবে।

 

যদি বলেন প্রেম-ভালোবাসা একবারই হয় জীবনে তাহলে ভুল হবে। বিশেষ করে আজকালকার জীবনে এই কথাটি একেবারেই অর্থহীন। কিন্তু তাই বলে এই নয় যে বারবার ভালোবাসার সম্পর্ক গড়ে তুলতে হবে। যে কোনো কারণেই সম্পর্কচ্ছেদ হতে পারে, তখন যদি আপনি প্রেম একবারই হয় এই তত্ত্বে বিশ্বাস করে বসে থাকেন তাহলে জীবনটাই থেমে থাকবে। যা হয়েছে ভোলার চেষ্টা করে নিজেকে নতুন করে গড়ে নিতে হবে, জীবনটাকেও সাজিয়ে নিতে হবে।

 

ভালোবাসা আর প্রেম। শব্দদুটো একে অপরের কাছাকাছি, কিন্তু তবুও একটা পার্থক্যতো আছেই। যদি ব্যক্তিগতভাবে বলি তা হলো, ভালোবাসাটা মানুষের আবেগ অনুভূতির একটা স্বাভাবিক রূপ। মানুষের প্রতি মানুষের ভালোলাগা, শ্রদ্ধাবোধ থেকেই মূলত ভালোবাসার উৎপত্তি। অবশ্য ভালোবাসার সংজ্ঞাটা আরো ব্যাপক, এটা যে কোন ঘটনা, ব্যক্তি, প্রাণী, স্মৃতি, বিষয় ইত্যাদির ব্যাপারেও হতে পারে। বিশেষ কোন “সাবজেক্ট”-এর ব্যাপারে মানুষের বিশেষ অনুভূতির নামই ভালোবাসা।

লেখক/লেখিকা সম্পর্কে julietdunford

julietdunford

এটাও দেখুন

কথায় আছে, ডরাইলেই ডর

কথায় আছে, ডরাইলেই ডর কিছুদিন আগে এক ছোট ভাই ধরেছে, নিজের চাকুরীর অভিজ্ঞতা নিয়ে একটা …

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।